খাগড়াছড়িতে অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার
খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা চারদিন ধরে চলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অবশেষে প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে জুম্ম ছাত্রজনতা। শনিবার সকালে সংগঠনটির মিডিয়া সেলের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শহীদদের ধর্মীয় রীতিতে পুণ্যকর্ম সম্পাদন, আহতদের সহায়তা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবিসমূহ আংশিকভাবে মেনে নেওয়ার আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১ অক্টোবর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পার্বত্য পরিষদ চেয়ারম্যান ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনায় বসেন জুম্ম ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি দল। সেখানে আট দফা দাবি ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা অবরোধ শনিবার সকালে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জুম্ম ছাত্র-জনতা অভিযোগ করে বলেছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যতম সমন্বয়ক উক্যনু মারমাকে ইউপিডিএফ সংশ্লিষ্ট হিসেবে ‘ট্যাগ’ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে বিবৃতি দিয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি পাহাড় নিয়ে অনলাইনে যারা ‘গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে শয়ন শীল (১৯) নামে এক যুবককে আটক করে।
এর জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে খাগড়াছিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ২৯ সেপ্টেম্বর গুইমারায় সংঘর্ষে তিন পাহাড়ি যুবক নিহত হন এবং ২০ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলা, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রামসু বাজার এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাত ২৫০–৩০০ জন এবং সিঙ্গিনালা এলাকায় ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৬০০–৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।


