মেহেরপুরে আদালত চত্বর থেকে আসামি অপহরণ, আটক ১০
মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের প্রাঙ্গণ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে এক জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় নুরুজ্জামান (৪২) নামের ওই আসামিকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয় একদল লোক। পরে পুলিশের দ্রুত অভিযানে অপহরণকারীদের গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বের হওয়ার সময় হঠাৎ ৮-১০ জনের একটি দল নুরুজ্জামানকে ঘিরে ফেলে ও বেদম মারধর শুরু করে। এরপর জোর করে তাকে একটি মাইক্রোবাসে তোলে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় লোক বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়। ঘটনার ফলে আদালত এলাকায় মুহূর্তে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাস আটক করা হয়।
উদ্ধার করা হয় নুরুজ্জামানকে ঘটনাস্থল থেকে ১০ জন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়
নুরুজ্জামানের ভাই রাজু আহমেদ জানান, তার ভাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের মৃত আফজাল মালিথার ছেলে। তার বিরুদ্ধে গাংনী উপজেলার পারভেজ আশরাফ ২৭ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি প্রতারণা মামলা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর জন্য নেওয়া অর্থের বিনিময়ে সেবা না দেওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
রাজু আহমেদ আরও বলেন,
“আদালত যখন এক মাসের জামিন মঞ্জুর করে, তখনই মামলার বাদী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং এ অপহরণকাণ্ড ঘটান। এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত।”
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানান,
“খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং অপহরণে জড়িতদের গ্রেফতার করি। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অপহরণ ও মারধরের মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন আসামিকে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।


