রংপুরের সাবেক মেয়র মোস্তফার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দেশজুড়ে
রংপুরের সাবেক মেয়র মোস্তফার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ঠিকাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরো সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী ও রংপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মামলায় অন্য আসামীরা হলেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাকিব ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাকিব, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার মালিক এটিএম ফুহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দুলাল,মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম শফিকুল মমতাজ, সিনিয়র অফিসার আতিকুর রহমান এবং সাবেক ফার্স্ট এ্যাসিটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামীরা প্রতারণামূলকভাবে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী জানা গেছে,রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মেয়র হিসেবে দায়িত্বরত থেকে টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার SA-RB (JV) এর অনুকুলে মেঘনা ব্যাংক বরাবর চেক ইস্যু করার নিশ্চিয়তা প্রদান করা সত্ত্বেও অপরাধমূলক অসদাচরনের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে উক্ত কাজের ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকের অনুকূলে চেক ইস্যু করার ফলে মেঘনা ব্যাংকের-৪,২৬,৭৫,৫০৩.৩৩ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতে সহযোগিতা করে, আসামী (মো: আব্দুর রকিব, সত্ত্বাধিকারী, মেসার্স রাকিব ব্রাদার্স, কর্তৃক টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার হয়েও প্রকল্পের কাজ না করে অপর একজনকে কার্য সম্পাদনের জন্য দায়িত্ব প্রদানের জন্য পাওয়ার অব এটর্নি সম্পাদনের পরেও ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকে গ্রহণ করে মেঘনা ব্যাংকের ৪,২৬,৭৫,৫০৩.৩৩ টাকা ঋণ পরিশোধ না করে, আসামী (৩) এটিএম ফুহাদ হোসেন (টিপু), সত্ত্বাধিকারী, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থা, আর.কে রোড, চেকপোষ্ট, রংপুর, কর্তৃক টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার না হওয়া সত্বেও উক্ত প্রকল্পের কার্যাদেশ দাখিল করে মেঘনা ব্যাংক লি. রংপুর শাখা হতে ঋণ গ্রহন করে ৪,২৬,৭৫,৫০৩.৩৩ টাকা পরিশোধ না করে, আসামী (৪) রফিকুল ইসলাম দুলাল, কর্তৃক টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার না হওয়া সত্বেও উক্ত প্রকল্পের কার্যাদেশ ব্যবহার করে মেঘনা ব্যাংক লি. রংপুর শাখা হতে মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার নামে ঋণ গ্রহনে সহযোগিতা করেন।

মামলার আসামি মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আসামী মো: মাহফুজুল ইসলাম, রংপুর শাখায় এসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ব্যবস্থাপক) হিসেবে কর্মরত থেকে টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার না হওয়া সত্বেও শাখার শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে অপরাধমুলকমুলক অসদাচরনের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার নামে মেঘনা ব্যাংক লি. রংপুর শাখা হতে ৩.০৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন। এবং অন্য আসামী সাবেক সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক আসামী একেএম শফিকুল মমতাজ টেন্ডারের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদার না হওয়া সত্বেও শাখার সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে অপরাধমুলকমুলক অসদাচরনের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্যে মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার নামে মেঘনা ব্যাংক লি. রংপুর শাখা হতে ৩.০৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করে ঋণ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করে এবং সিনিয়র অফিসার মো. আতিকুর রহমান মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার নামে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন।

এবং মেঘনা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ফার্স্ট এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী ঋণ প্রস্তাবে অসংগতি উল্লেখ না করে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন।পরবর্তীতে ৮ মে ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৭১তম বোর্ড সভায় গ্রাহকের অনুকূলে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান,মামলার বিষয়টি আমার জানা নেই।বর্তমানে ঢাকায় আছি গিয়ে দেখব।
মামলা হবার আগে দুদক কর্মকর্তা তলব করেছিল কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক আমাকে তলব করেনি আমি নিজেই দুদক অফিসে গিয়েছিলাম। একবার ফোন করেছিল শুধু।সে সময় আমি বলেছিলাম আমার এ বিষয়ে কোন সম্পৃক্ততা নেই। আপনারা মামলা করেন আমি কোর্টে ফেস করব।

মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার ম্যানেজার শামসুজ্জামান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। যে সময় এই ঘটনা ঘটেছে সে সময়ে আমি ব্যাংকে ছিলাম না।

রংপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়া বলেন, অনুসন্ধানে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।