দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ: উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী?

জাতীয়
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের পথে বাংলাদেশ: উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কী?
নিউজ ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নিম্নকক্ষ বা ‘জাতীয় সংসদ’ই থাকবে রাষ্ট্রের প্রধান চালিকাশক্তি। বাজেট ও অর্থসংক্রান্ত সব বিল পাসের একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকবে নিম্নকক্ষের হাতে। তবে অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোনো বিল পাসে দুই কক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। উচ্চকক্ষ মূলত নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া বিলগুলো পর্যালোচনা করে ‘দ্বিতীয় চিন্তার’ সুযোগ সৃষ্টি করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। এবারই প্রথম বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠিত হচ্ছে—নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ নিয়ে।

নিম্নকক্ষের কাঠামো

প্রথম ১৮০ দিন নিম্নকক্ষের সদস্যরা সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পালন করবেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উচ্চকক্ষ গঠন ও কাঠামো

সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি সংশোধিত সংবিধান ও প্রণীত আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে—সরাসরি, পরোক্ষ বা মনোনয়ন—সব বিকল্পই বিবেচনায় থাকতে পারে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের মেয়াদকাল পর্যন্ত।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া
  • বিল প্রথমে নিম্নকক্ষে উত্থাপিত হবে

  • অর্থবিল কেবল নিম্নকক্ষেই পাস হবে

  • অন্যান্য বিলের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের সমন্বিত অনুমোদন প্রয়োজন

  • রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া কোনো আইন কার্যকর হবে না

  • সংবিধান সংশোধনে নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আবশ্যক

বিশ্লেষকদের মতে নতুন কাঠামো, ভবন ও সদস্যদের ব্যয়ে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। দুই কক্ষের কারণে জরুরি আইন পাসে বিলম্ব হতে পারে। উচ্চকক্ষ রাজনৈতিক ‘পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার কমিশনের মতে, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং একক দলের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ কমাবে। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর। গণভোটে অনুমোদন পেলে এ কাঠামো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।