ইন্দোনেশিয়ায় প্রাদেশিক পরিষদ ভবনে বিক্ষোভকারীদের আগুন, নিহত ৩
বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশে ইন্দোনেশিয়ায় সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের বাড়িভাড়া ও ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের গাড়িচাপায় এক বাইক রাইডারের মৃত্যু কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার (৩০ আগস্ট) দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সুলাওয়েশি প্রদেশের মাকাস্সারে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক পরিষদে ঢুকে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ঘটনায় তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়ার সংসদ সদস্যদের মাসিক বাড়িভাড়া ও ভাতা বৃদ্ধি করে প্রায় ৩ হাজার ডলার বা আড়াই লাখ টাকা করা হয়, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ বিক্ষোভে নামলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা জাকার্তা শহরে বাস ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত করেন, কিছু বাসে আগুন দেওয়া হয় এবং টোল প্লাজায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন থানা ও সরকারি ভবনেও আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, পুলিশের গাড়িচাপায় এক বাইক রাইডারের মৃত্যুর ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রেসিডেন্ট প্রোবোও সুবিয়ান্তো নিহত রাইডারের পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন।
মোটা অঙ্কের ভাতা ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এবং পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ একে অপরকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক এবং পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বাগির। তার মতে, “পুলিশ জনগণের বন্ধু, ক্ষমতাসীনদের নয়।”
এ পরিস্থিতিতে, পুরো ইন্দোনেশিয়া জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সাধারণ জনগণের প্রতিবাদ তীব্র হয়ে উঠেছে, যা একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে।


