গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি: হামাস সম্মত, ইসরায়েলের দ্বিধা

গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি: হামাস সম্মত, ইসরায়েলের দ্বিধা
নিউজ ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৫

গাজার ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে আলোচনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, তারা কাতার ও মিশরের যৌথ প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। যদিও হামাসের এই ইতিবাচক বার্তার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এসেছে অনমনীয় প্রতিক্রিয়া—তারা এখনও সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার কথা বলছে।

হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী কাতার ও মিশরের প্রস্তাবনায় সম্মতি জানিয়েছে এবং ইতোমধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পাঠানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, ইসরায়েলি সেনারা গাজার অভ্যন্তরে অবস্থান পরিবর্তন করবে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা কমবে।

এই সময়ের মধ্যে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২৫ জন ইসরায়েলিকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হামাস। মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী—এটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে ইসরায়েলের অবস্থান আগের মতোই কঠোর। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা গাজা সিটির চারপাশে সেনা অবস্থান জোরদার করেছি। মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্‌জ দাবি করেছেন, হামাস শুধুই বন্দিমুক্তির লক্ষ্যেই আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে, কারণ তারা গাজা সিটিতে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনীতিক এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করে বলেন, “হামাস যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন তাদের আরেকটি সুযোগ দেওয়ার অর্থ হলো ভবিষ্যতের বিপদ আমন্ত্রণ।”

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্যে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় অন্তত ৬২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। খাবার ও ওষুধের সংকটে ২০ লাখ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ২৬০ জনের অনাহারে মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি গাজা সীমান্ত পরিদর্শনের সময় বলেন, “মানবিক বিপর্যয় রোধে যুদ্ধবিরতির বিকল্প নেই। আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

এর আগেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জানুয়ারির যুদ্ধবিরতি মার্চেই ভেঙে দেয় ইসরায়েল। সর্বশেষ জুলাই মাসে দোহায় হওয়া আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের সম্মতি একটি ইতিবাচক বার্তা হলেও বাস্তবে যুদ্ধ থামানো কঠিন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও হামাসের নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভাজন যুদ্ধবিরতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।