পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ৩০০+ নিহত, গ্রাম পরিণত মৃত্যুপুরিতে

পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় ৩০০+ নিহত, গ্রাম পরিণত মৃত্যুপুরিতে
নিউজ ডেস্ক
১৬ আগস্ট ২০২৫

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০৭ জনের, নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বুনের জেলার বেশন্ত্রি গ্রাম, যেখানে ঘরবাড়ি, পরিবার—সবকিছু মুছে দিয়েছে বন্যার প্রবল তোড়।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল সামাদ নফল নামাজে ছিলেন যখন বন্যার খবর পান। দ্রুত তিনি পরিবার ও প্রতিবেশীদের সরে যেতে বলেন। কিন্তু নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখতে পান, তার নিজের ঘরসহ গোটা গ্রাম ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউই আর ফিরে আসেনি। তারা এখনো নিখোঁজ।

প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা আশফাক আহমদ ছিলেন ইসলামাবাদে। খবর পেয়ে গ্রামের দিকে রওনা দেন, কিন্তু ফোনে আর কাউকে পাননি। গ্রামে পৌঁছে তিনি দেখেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা এলাকা। তার পরিবারের ১৪ জন সদস্যের মধ্যে চারজনের লাশ মিলেছে, বাকিরা এখনো নিখোঁজ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর ইসলাম এবং প্রবাসী মুহাম্মদ ইসলাম উদ্ধার কাজে অংশ নিতে নিজ উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় যান। নূর বলেন,

“বেশন্ত্রি গ্রামে পৌঁছে দেখি, এমন একটি বাড়িও নেই যা দাঁড়িয়ে আছে। আহতরা মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, মৃতদেহ তুলতে ও দাফন করতে আমরা নিজেরাই হাত লাগিয়েছি।”

মুহাম্মদ ইসলাম বলেন,

“আমার আত্মীয়ের পরিবারে শুধু দুটি শিশু বেঁচে গেছে, কারণ তারা গাছে উঠেছিল। বাকি নয়জন নিখোঁজ।”

পিডিএমএ-র সর্বশেষ তথ্য:

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য ৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পাশাপাশি রেসকিউ ১১২২, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও যুক্ত হয়েছেন।

তবে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে।

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২১ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

এই বন্যা শুধু ঘরবাড়ি বা জীবিকা নয়, একেকটি পরিবারকেই মুছে দিয়েছে। শোকাহত মানুষের আর্তনাদ আর উদ্ধারকারীদের দৃষ্টান্তবদ্ধ মানবিকতা—সব মিলিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া আজ এক করুণ ইতিহাসের সাক্ষী।