যুক্তরাজ্যে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন জব্দকৃত সম্পত্তির একটি অংশ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির প্রশাসন। দায়মুক্তির লক্ষ্যে তার বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Telegraph।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) এর জব্দাদেশের পরপরই সাইফুজ্জামানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ধসের মুখে পড়ে। তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য সম্পদগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
উত্তর লন্ডনের সেন্ট জনস উডে ১১ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিলাসবহুল বাড়ি
-
মধ্য লন্ডনের ফিটজরোভিয়ায় একটি ফ্ল্যাট ব্লক
সম্প্রতি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রান্ট থর্নটন তার বিভিন্ন কোম্পানির সম্পদ বিক্রির দায়িত্ব নিয়েছে। এসব কোম্পানির বেশিরভাগ সম্পদই ভাড়া-ভিত্তিক আবাসন প্রকল্প।
গত জুলাইয়ে তার মালিকানাধীন আরও তিনটি কোম্পানি দেউলিয়ার মুখে পড়ে। এগুলো হলো:
-
ZTS Properties Ltd.
-
Rukhmila Properties Ltd.
-
New Ventures (London) Ltd.
এই কোম্পানিগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা) হলেও, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক নথি বলছে—তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকের কাছে প্রায় ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণগ্রস্ত।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সিঙ্গাপুরভিত্তিক DBS ব্যাংক তাদের একাধিক সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ দিয়েছে, যা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে অর্থপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। তার বিদেশি বিনিয়োগের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। সর্বশেষ মামলাটি হয় ৭ আগস্ট, যেখানে অভিযোগ করা হয় যে তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (UCBL) অর্থ আত্মসাৎ করে ২৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন। মামলায় তার স্ত্রী, বোনসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী অবশ্য বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, সব সম্পদই তিনি বৈধভাবে অর্জন করেছেন এবং এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।


