মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা

মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা
নিউজ ডেস্ক
৩১ জুলাই ২০২৫

তিন বছর আগে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে নেওয়া মিয়ানমারের সামরিক জান্তা হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছয় মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

তবে এই ঘোষণাকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের আশঙ্কা, এই নির্বাচন হবে সামরিক সরকারের ক্ষমতা বৈধ করার আরেকটি উপায়, যার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে আরও একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। সেই থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ, গণবিক্ষোভ, দমন-পীড়ন ও হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ। নির্বাচনের পর তিনি হয় প্রেসিডেন্ট পদে, নয়তো সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার পথ খুঁজছেন। এতে নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়ার একটি চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি জানিয়েছে, ভোট পরিচালনার জন্য মিন অং হ্লাইং-এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তবে মানবাধিকার সংগঠন ও গণতন্ত্রপন্থি নেতারা এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ ও প্রহসন বলে দাবি করছেন। তাঁদের মতে, দেশে যখন হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দী, গুম, নির্যাতন এবং সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে, তখন কোনো নির্বাচনের পরিবেশ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক তুন মিন থু বলেন, “এই নির্বাচন আদতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে না, বরং সামরিক স্বার্থেই পরিচালিত হবে। তারা হয়তো বেসামরিক মুখোশ পরিয়ে ক্ষমতা চালিয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে চাইছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক মিত্রদের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই ‘গণতন্ত্রের নাটক’ মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে, গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি এখনো বন্দি রয়েছেন। তার মুক্তি এবং এনএলডি (NLD) দলের অবস্থান নিয়ে জান্তা সরকার কোনো বার্তা দেয়নি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে প্রকৃত বিরোধীদলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সামরিক জান্তার এই নির্বাচনী ঘোষণা মিয়ানমারে একটি নতুন রাজনৈতিক মোড় বয়ে আনবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকরা একে গণতন্ত্রের পথ নয়, বরং ‘নির্বাচনের ছায়ায় একনায়কতন্ত্র স্থায়ী করার ছক’ হিসেবেই দেখছেন।