মার্কিন শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারতের ব্যবধান বাড়ছে, আলোচনায় আশার সুর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুসারে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও বাংলাদেশকে অনেকটাই কম শুল্কের সুযোগ মিলতে পারে। ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখিয়েছে। আলোচনায় মার্কিন পক্ষ শুল্কহার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, ভিয়েতনাম, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক নির্ধারণের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা যায়, ১০-২০ শতাংশ শুল্ক হারেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারীরা স্বস্তিতে রয়েছে।
এদিকে, ভারত এখনও মার্কিন সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক হার প্রতিরোধ করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল কেনায় যুক্ত ভারতের ছয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য অনুকূল শুল্ক হার পাওয়ার সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হচ্ছে।
ঢাকা থেকে পাঠানো পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ অর্ডার, সাত লাখ টন গম আমদানিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমাদের প্রস্তাবের প্রতি মার্কিন পক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং শুল্ক কমানোর ব্যাপারে আশাবাদী হতে পারি।’
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আলোচনার ফলাফল বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এবং প্রতিবেশী ভারত থেকে বাংলাদেশের অবস্থান আলাদা ও শক্তিশালী করে তুলবে।


