গাজায় গণহত্যা চলছে, সরাসরি দায় ইসরায়েলের: বি’তসেলেমের প্রতিবেদন
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম সোমবার প্রকাশিত এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল কর্তৃক পরিচালিত সামরিক অভিযান একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। ৭৯ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য, নীতি এবং আক্রমণের পরিণতি বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনের মূল বক্তব্যে বলা হয়, “ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্য হামাসকে নির্মূলের বাইরে গিয়ে পুরো গাজাবাসীকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার দিকে মোড় নিয়েছে।” এতে গাজায় জীবনধারণের অনুপযুক্ত অবস্থা, অবকাঠামোর ধ্বংস, গণগ্রেফতার, বন্দিদের ওপর নির্যাতন এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাগুলোকে গণহত্যার উপাদান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সিএনএন বলেছে, এ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে তারা ইসরায়েলি সরকার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েল অতীতেও এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর হামাসের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই তাদের সব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি নেতৃবৃন্দ বারবার এমন ভাষায় কথা বলেছেন যা গণহত্যার মনোভাব প্রতিফলিত করে। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বক্তব্যে দেখা গেছে, গাজা জনগণকে ‘শত্রু’ ও ‘মুছে ফেলার লক্ষ্য’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বি’তসেলেম শুধু ইসরায়েলকেই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও দোষারোপ করেছে। তারা বলেছে, “ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কার্যত মদত দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের বহু শক্তিধর রাষ্ট্র। এ সহায়তা না থাকলে হয়তো এতদূর এগোত না এই গণবিধ্বংসী অভিযান।”


