৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন আয়োজন করেছে। এ বছর প্রথমবারের মতো সরকারি নির্দেশিকায় ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দিনটি।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
দিবসটির প্রধান রাজনৈতিক আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর নয়াপল্টন। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন। সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি নয়াপল্টনের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনও করেছে দলটি।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। ভবিষ্যতে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন কেউ কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি আয়োজনের অংশ হিসেবে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়েছে। মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। হাসপাতাল, এতিমখানা, কারাগার ও বিভিন্ন শিশুপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবার পরিবেশনেরও নির্দেশনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের শিশু পার্কগুলো দিনব্যাপী বিনা টিকিটে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশাত্মবোধক সংগীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে। টেলিভিশন ও বেতারে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা সব যানবাহন টোল ছাড়াই এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে বিবেচনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্টরা। তাঁদের মতে, ওই দিনের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন এনেছিল। জিয়াউর রহমানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবারও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।


