ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ টাকা দেওয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭ হাজার ৮১৪ পরিবারের ‘নারী প্রধানকে’ টাকা দেওয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে নারী ও শিশুরা উন্নয়নের সমঅংশীদার হবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি জানান, দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের সহায়তায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (VWB), মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এবং নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণনে জয়িতা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চালু রয়েছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC), ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব, ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টারসহ বিভিন্ন সেবা চালু রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার ভবিষ্যতে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, টিকাদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারিও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিশুদের উন্নয়নে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা এবং দরিদ্র শিশুদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পথশিশু পুনর্বাসনের আওতায় বর্তমানে ১৫১ জন শিশুকে আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় দেশে ৬৪টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালু রয়েছে, যেখানে শিশুদের খাদ্য, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় নারীদের জন্য ‘জেন্ডার রেসপন্সিভ ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৪৩ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ ও জীবিকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং হাজারো পরিবারে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

সরকার নদীভাঙন প্রতিরোধেও পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা এলাকায় বাঁধ সংস্কার ও নদীতীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।