বিতরণকেন্দ্রের কাছে হামলা, আহত ১৭৫; মানবিক সহায়তার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন

ত্রাণের লাইনে রক্তঝরা: গাজায় ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ২১

ত্রাণের লাইনে রক্তঝরা: গাজায় ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ২১
নিউজ ডেস্ক
১ জুন ২০২৫

গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেড ক্রসের একটি অস্থায়ী হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৭৫ জন।
রোববার সকালে বিতরণকেন্দ্রের আশপাশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শত শত মানুষ খাদ্যের আশায় সমবেত হলে আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা। ঘটনাস্থল ছিল বিতরণকেন্দ্র থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে—ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি এলাকা।

গাজা সিটির বাসিন্দা ইব্রাহিম আবু সাউদ বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমরা মাত্র ৩০০ মিটার দূরে ছিলাম, তখনই গুলি চালানো শুরু হয়। নারীরা চিৎকার করছিল, অনেকে পড়ে যাচ্ছিলেন। আমার চোখের সামনে মানুষ মারা গেল।”

মোহাম্মদ আবু তায়িমা জানান,

“আমার চাচাতো ভাই ঘটনাস্থলে মারা গেছে। আমার ভায়রাও আহত হয়েছেন। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়—ওরা আমাদের লক্ষ্য করেই গুলি চালিয়েছে।”

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) দাবি করেছে, তারা ঘটনার আগে ১৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক নিরাপদে বিতরণ করেছে এবং মৃত্যুর খবরকে ‘ভুল তথ্য’ বলে দাবি করেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই বিতরণ পদ্ধতি ফিলিস্তিনিদের আরও ঝুঁকিতে ফেলছে, কারণ নির্ধারিত স্থানে যেতে বাধ্য করার ফলে গুলি ও সহিংসতার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই ব্যবস্থাকে “মানবিক নীতিমালার লঙ্ঘন” বলছে। সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলি অবরোধ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছে তারা।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, বাস্তুহারা হয়েছেন ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ।