উদয়ন স্কুলে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আইন ও আদালত
উদয়ন স্কুলে যৌ’ন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
৩ নভেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহপাঠী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর শাস্তি, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে বিদ্যালয়ের মাঠে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই, হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে আন্দোলন চলাকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সহপাঠী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, এআই দিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তাদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিচয়ের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রক্টর অফিস ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফ রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ৭ অক্টোবর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর ছেলেকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে পলাশী ও আজিমপুর এলাকায় নিয়ে মারধর করে। এতে ছেলে গুরুতর আহত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে। পরে তাদের আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, এরপর তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংবলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেনের ভাষ্য, তাঁর ছেলের সঙ্গে অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর আগে বন্ধুত্ব ছিল। পরে একটি ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিতে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে তাঁর ছেলেকে ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ছেলের বক্তব্য অনুযায়ী, টাকা দেওয়া বন্ধ করে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরই তাকে মারধর করা হয়।

তিনি জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর ছেলেকেও ডাকা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে তাঁরা ছেলেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত নয়। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখবে। তবে সেখানে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।