ভারতের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান

দেশজুড়ে
ভারতের অনুমতি না মেলায় আটকে গেল ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান
নিউজ ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২৫

ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশের মাধ্যমে ভুটানে পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল। থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভুটানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো প্রথম ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনারটি লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে চার দিন ধরে আটকে আছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) কনটেইনারটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো ‘নো অবজেকশন’ বা সড়ক ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় পণ্যটি ভারতের সীমানায় প্রবেশ করতে পারছে না। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েক দফা চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশ–ভুটান প্রটোকল চুক্তির আওতায় দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত এপ্রিলে দুই দেশের বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ ব্যবহার করে দুটি চালান ভুটানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। তারই প্রথম চালান এটি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’ পাঠানো কনটেইনারটিতে ছয় ধরনের পণ্য রয়েছে—ফলের জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু-স্বাদযুক্ত ক্যান্ডি ও শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন ভোক্তা সামগ্রী। ২২ সেপ্টেম্বর কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে এবং সেখান থেকে সড়কপথে বুড়িমারীতে আসে।

বেনকো লিমিটেডের প্রতিনিধি ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, “চালানটি বন্দরে প্রস্তুত রয়েছে। ভারত তাদের সড়ক পথ ব্যবহারের অনুমতি দিলেই আমরা পণ্যটি ভুটানে পাঠাতে পারবো।”

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, কনটেইনারটি বৃহস্পতিবার থেকেই বন্দরের ইয়ার্ডে নিরাপদে রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। একই সঙ্গে বুড়িমারী কাস্টমস স্টেশনের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, ভুটানের চালানের সব কাস্টমস প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শুধু ভারতের অনুমতির অপেক্ষা।

তবে ভারতের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ কবে অনুমতি দেবে—বা আদৌ দেবে কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বহু প্রত্যাশিত এই ট্রানশিপমেন্ট কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।