সম্ভাবনার ভোমরা স্থলবন্দর থমকে অবকাঠামো সংকটে

দেশজুড়ে
সম্ভাবনার ভোমরা স্থলবন্দর থমকে অবকাঠামো সংকটে
নিউজ ডেস্ক
১৮ নভেম্বর ২০২৫

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর—কলকাতা থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে—দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলতে পারত। পদ্মা সেতুর কারণে রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ এখন আগের চেয়েও দ্রুত। সম্প্রতি ভোমরাকে কাস্টমস হাউজ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, গুঁড়াদুধ ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতিও মিলেছে। তবুও বাস্তবে বন্দর উন্নয়নের গতি রীতিমতো স্থবির।

১৯৯৬ সালে চালু হওয়া এ বন্দরে ২০১৩ সালে ওয়্যারহাউজ নির্মাণের পর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের স্বীকৃতি মিললেও তিন দশক পার হয়ে গেলেও আধুনিক শেড, প্রশস্ত রাস্তা, ট্রাক টার্মিনাল, স্ক্যানার বা ল্যাবরেটরি—এসবই এখনো পুরো সক্ষমতা লাভ করেনি। কাগজে শক্তিশালী, মাঠে দুর্বল—এমনই অবস্থায় চলছে কার্যক্রম।

ভোমরা কাস্টমস স্টেশন জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ৫৯ হাজার ৬৯৩টি গাড়িতে ৮ হাজার কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে। রাজস্ব আয় হয়েছে ৯৭৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। রপ্তানিতেও ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে। মোট রাজস্ব আয় বেড়েছে ৯২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামো উন্নত হলে এ আয় অন্তত দ্বিগুণ হতো। পর্যাপ্ত শেড না থাকায় কৃষিপণ্য খোলা জায়গায় রাখা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পণ্য। সংকীর্ণ, ভাঙাচোরা রাস্তা ও ট্রাক টার্মিনালের অভাবে বন্দরের ভেতর সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।

সিএন্ডএফ এজেন্টরা অভিযোগ করেন, কাস্টমস হাউজ ঘোষণা হলেও কমিশনার বা সহকারী কমিশনার পদে এখনো পোস্টিং হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীদের কাজের অনুমোদনের জন্য খুলনায় যেতে হয়—বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে এতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। স্ক্যানার, নিরাপত্তা প্রাচীর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ল্যাব না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, হাতে গোনা সরঞ্জাম দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়া অসম্ভব। এই সংকট সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকায় প্রভাব ফেলছে।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, “পদ্মা সেতু ভোমরার গুরুত্ব অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে বন্দরটি পিছিয়ে পড়বে।”

ভোমরা বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। স্থলবন্দরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম জানান, প্রথম ধাপে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ ও বালি ভরাটের কাজ চলছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন। এরপর আধুনিক শেড, ওয়্যারহাউজ, কার্গো ইয়ার্ড, পার্কিং ইয়ার্ড ও আন্তর্জাতিকমানের টার্মিনাল নির্মাণ শুরু হবে।

স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার “ভোমরা স্থলবন্দর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প” অনুমোদিত হয়েছে। ৬৭ একর জমি হস্তান্তরের পরই পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও জিওবির অর্থায়নে চলমান অ্যাকসেস প্রোগ্রামের আওতায় উন্নত স্ক্যানার, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড ও সংযোগ সড়ক উন্নয়ন চলছে। প্রকল্প পরিচালক মো. রুহুল আমিন মিয়া আশা করছেন—সব উন্নয়ন সম্পন্ন হলে ভোমরা হবে আঞ্চলিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র।