সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা চাপ, রাখাইনে সংঘাতে ফের উত্তেজনা

দেশজুড়ে
সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা চাপ, রাখাইনে সংঘাতে ফের উত্তেজনা
নিউজ ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০২৫

রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের জেরে আবারও বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষীরা। সীমান্তে গুলির শব্দ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই আজ রোববার কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকে মিয়ানমারের কুমিরখালী, শীলখালী ও সাইডং এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার দিনে ও রাতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা ৬২ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিজিবির দাবি।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, ‘কয়েকটি দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে। এসব চক্র শনাক্তে অভিযান চলছে।’

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে, আরাকান আর্মির সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাতে রাখাইনের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, আরাকান আর্মি শিশুদের জোর করে যুদ্ধে পাঠাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তাদের প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি। বরং অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ১.৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছেন। এর মধ্যে ১.২১ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধিত হয়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ফেরাতে কক্সবাজারের ইনানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ‘অংশীজন সংলাপ: রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বার্তা’ শিরোনামে আয়োজিত এ সম্মেলনে ৪০টি দেশের প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ডিসেম্বরের দোহা সম্মেলনের প্রস্তুতি ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থানপত্র তৈরি।

প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত, আন্তর্জাতিক মনোযোগ শিথিল এবং সহায়তা হ্রাস—এই তিন চ্যালেঞ্জের মুখে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করছে। নতুন করে সীমান্তে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারও উদ্বিগ্ন।