দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত, কুমিল্লায় ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্ন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ
কুমিল্লায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ নিলো প্রশাসন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ইউটার্নটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান।
২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটার্নটি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
শুক্রবার দুপুরে ওই ইউটার্ন অতিক্রমকালে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান উল্টে একটি প্রাইভেটকারকে চাপা দিলে একই পরিবারের চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতরা হলেন—বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০), এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান জানান, “ইউটার্নটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সেনাবাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত পাশের দয়াপুর ইউটার্ন ব্যবহার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, পদুয়ার বাজার এলাকায় ইউলুপ নির্মাণ কাজ চলছে। সেটি চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ইউটার্ন ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম। অভিযুক্ত করা হয়েছে কাভার্ড ভ্যান ও একটি হানিফ পরিবহনের বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার এসআই আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, “সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উভয় গাড়ির চালকদের অসতর্কতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
প্রশাসন বলছে, শুধু অবকাঠামো পরিবর্তন নয়, চালকদের সচেতনতা এবং নিয়ন্ত্রিত গতিও দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আরও একটি সভা হবে, যেখানে ইউটার্ন বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের সক্রিয়তা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবার এমন শোক না পায়—সেই চেষ্টাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের।


