চাঁদপুরে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনে কাজ শুরু, ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা

দেশজুড়ে
চাঁদপুরে আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনে কাজ শুরু, ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা
নিউজ ডেস্ক
২৩ আগস্ট ২০২৫

‘ইলিশের বাড়ি’ খ্যাত চাঁদপুরে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের প্রস্তাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি হবে তিনতলা বিশিষ্ট এবং ০.৪০ একর জমির ওপর নির্মিত হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আগামী তিন বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে একটি আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাব গৃহীত হলেও ভূমি রেলওয়ের মালিকানাধীন হওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আট বছর পর সেই উদ্যোগকে আধুনিক ও সময়োপযোগী রূপে আবারও উত্থাপন করেন বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক জানান, চলতি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রস্তাবটি পুনরায় উত্থাপন করা হয় এবং গত ২২ জুলাই বিএফডিসির চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।

নতুন এই অবতরণ কেন্দ্রে থাকবে—

  1. আধুনিক বরফকল

  2. নিলামশেড ও আড়তঘর

  3. পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার

  4. মাছ হিমায়িতকরণ ও প্যাকেজিং সুবিধা

  5. মিনি ডকইয়ার্ড ও পন্টুন

  6. মৎস্য জাদুঘর

  7. করপোরেট অফিস স্পেস

  8. ব্যাংক শাখা

  9. উন্নতমানের রেস্তোরাঁ

এই কেন্দ্র চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৬টি জেলার জেলে ও মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চাঁদপুরের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল এই খাত। নতুন জেলা প্রশাসক সাহসিকতার সঙ্গে এই পরিকল্পনা সামনে এনেছেন, এটি প্রশংসনীয়।”

মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শবেবরাত সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তিনি চান, “ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন কোনো কর যেন চাপানো না হয় এবং নির্মাণকালে তাদের বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দিতে হবে।”

ক্রেতারাও বলছেন, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে তারা হয়রানি ছাড়াই মাছ কিনতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “ইলিশ সংরক্ষণ, সুষ্ঠু সরবরাহ ও রফতানির জন্য আধুনিক অবকাঠামো অপরিহার্য। একইসঙ্গে পর্যটকরাও যেন প্রতারিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।”

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে এবং একটি থ্রিডি ভিডিও ডকুমেন্টারিও তৈরি করে বিভিন্ন মহলে উপস্থাপন করা হয়েছে।