চিরকুটে স্ত্রীর প্রতি অভিমান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দর্জি দোকানির আত্মহত্যা

দেশজুড়ে
চিরকুটে স্ত্রীর প্রতি অভিমান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দর্জি দোকানির আত্মহত্যা
নিউজ ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক দর্জি দোকানি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। মৃত্যুর আগে লেখা একটি চিরকুটে স্ত্রীকে দায়ী করেছেন তিনি। তার দাবি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও দাম্পত্য অস্থিরতা তাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে।

শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে ৩২ বছর বয়সী লোকমান সরদারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি পেশায় দর্জি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই বাজারে দোকান চালিয়ে আসছিলেন।

মরদেহের পাশে পাওয়া চিরকুটে লোকমান লিখেছেন:

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমার বউ আমার মরার দাই, কারণ সে টাকা টাকা করতো, আর আমার কথা শুনতো না। আমাকে মিথ্যা ভালোবাসতো। আমি বুঝে গেছি টাকা না থাকলে সে আমাকে ছেড়ে যাবে। তাই আমি মরে গেলাম।”

আরও লেখা ছিল:

“আমি শেষ চেষ্টা করেছি পারিনি। আমার সব টাকা শেষ। তাই আমার বেঁচে লাভ নেই। তুমি আমার বিশ্বাস করলা না। সবাই বলে আমি খারাপ, যে বাসায় ভাড়া থাকি তারাও বলে আমি চোর। আমি আর নিতে পারছি না। আমি মরে গেলাম, সবাই ভালো থাকবেন।”

লোকমান সরদার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের জাকির সরদারের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আশপাশের মানুষজনের সন্দেহ ও কথাবার্তা তার মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে তোলে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি তার দোকানে বিক্রি কমে গিয়েছিল এবং সংসারে টানাপোড়েন দেখা দেয়। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কও তিক্ত হয়ে উঠছিল।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক সহানুভূতি ও পরিবারের সহায়তা সবচেয়ে জরুরি। সম্পর্কের টানাপোড়েন, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অপবাদ—এই তিনটি মিলেই অনেক সময় একজন মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।