ফেনীর মহিপালে গুলিতে ঝরে ১০ প্রাণ, বিচারের অপেক্ষায় পরিবারগুলো

দেশজুড়ে
ফেনীর মহিপালে গুলিতে ঝরে ১০ প্রাণ, বিচারের অপেক্ষায় পরিবারগুলো
নিউজ ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০২৫

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট—বাংলাদেশের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার একদফা আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে। তারই ভয়াবহ রূপ দেখা যায় ফেনীর মহিপালে, যেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন তরুণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দুপুরের পরপরই হঠাৎ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা অতর্কিতভাবে গুলি চালান, যার নেতৃত্বে ছিলেন ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী।

গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হন ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, মাসুদ, সিহাব, শাহীসহ সাতজন। ফেনীর বাইরে আন্দোলনে নিহত হন আরও তিনজন। আহত হন ৪ শতাধিক। রক্তাক্ত রাজপথে অসহায় হয়ে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ঘটনার পর জেলায় ২২টি মামলা হয়—এরমধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। পুলিশ জানিয়েছে, মোট আসামি প্রায় ৬ হাজার, এরমধ্যে এজাহারভুক্ত ২১৯৯ জন। এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে ১১ জন।
সম্প্রতি এক মামলায় ২২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, যেখানে নাম রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নিহত শ্রাবণের বাবা নেছার আহম্মদ বলেন,

“আমরা কোনো টাকা বা অট্টালিকা চাই না। শুধু চাই ছেলেকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে, তারা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।”

শ্রাবণের মা ফাতেমা আক্তার শিউলী বলেন,

“ছেলের মৃত্যুর পর আমাদের জীবনে কোনো আনন্দ নেই। বিচার না হলে ছেলের আত্মা কষ্ট পাবে।”

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান,

“সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে ১০টি শহীদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বমোট প্রায় ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।”

ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান,

“অস্ত্রধারী অনেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।”

শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং মূল অভিযুক্তদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। তারা চান দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।