তিন চিকিৎসকে চলছে লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা-রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দেশজুড়ে
তিন চিকিৎসকে চলছে লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা-রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নিউজ ডেস্ক
৩১ জুলাই ২০২৫

ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা। একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান — রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু এখানকার লক্ষাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে।

চলতি বছরের মাঝামাঝি সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অচল, জরুরি বিভাগের কোনো সাইনবোর্ড পর্যন্ত নেই। নেই কার্যকর অ্যাম্বুলেন্সও—যেটি আট মাস ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে গ্যারেজে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এখানে ২৫ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে। বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদ একেবারেই শূন্য। গাইনি, শিশু, মেডিসিন, ও নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ তো নেই-ই। নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়া—সব জায়গায়ই একই অবস্থা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের সোলার প্যানেলও অকার্যকর, যদিও চলতি অর্থবছরে ২২ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অধিকাংশ ফ্যান নষ্ট, লাইটও পর্যাপ্ত নেই। রোগীরা হাতপাখা নিয়ে গরমে ধুঁকছেন। টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী; রোগী-স্বজনদের অভিযোগ, “দশ বছরেও পরিষ্কার হয়নি”।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করলেও, বাস্তবে অ্যাম্বুলেন্স আট মাস ধরে অচল। ফলে ময়মনসিংহ বা জামালপুর রেফার হলে রোগীদের ভরসা শুধু ভাড়ায় আনা গাড়ি বা স্থানীয় ভ্যান। এতে সময়মতো হাসপাতালে না পৌঁছানোর ঝুঁকিতে পড়ছে প্রাণ।

চিকিৎসা নিতে আসা ফরিজল হক বলেন,
“সব ওষুধ-সামগ্রী কিনতে হলে সরকারি হাসপাতালে এসে লাভ কী? গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানুলা—কিছুই তো দেয় না।”

আরেক রোগী আমেনা খাতুন বলেন,
“টয়লেট ব্যবহারই সম্ভব না। গন্ধে দাঁড়ানো যায় না। এ কি হাসপাতাল না ময়লার ভাগাড়?”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সরোয়ার জাহান দাবি করেন,
“অ্যাম্বুলেন্স সচল রয়েছে। চিকিৎসকের ঘাটতি থাকলেও ওষুধের সংকট নেই।”

তবে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন,
“বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”