ভুয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’ চিহ্নিত, তদন্তে আলোচনায় গফরগাঁও
গফরগাঁওয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ অংশগ্রহণ না করেও নিজেকে আহত আন্দোলনকারী দাবি করে সরকারি ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা—এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মশাখালী ইউনিয়নের তারা মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিষয়টি নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন। কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২৪ জুন গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে তাদের হাতে স্বাস্থ্য কার্ড তুলে দেওয়া হয়। তারা মিয়া ছাড়াও আরও পাঁচজন এই কার্ড পান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা মিয়া কোনোভাবেই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং তিনি একজন সক্রিয় যুবলীগ নেতা এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
স্থানীয় বিএনপির সাবেক নেতা মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “তারা মিয়া আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তার আন্দোলনে আহত হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা রাষ্ট্রীয় সুবিধা আত্মসাতের চেষ্টা।”
তারা মিয়া অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “২০০০ সালে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলে ছিলাম। গাজীপুরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে চোখে গুলিবিদ্ধ হই। আমি প্রকৃত ‘জুলাই যোদ্ধা’।”
তবে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলা আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি মিথ্যা পরিচয়ে সুবিধা নিয়েছেন, তাহলে তা খুবই দুঃখজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে ইউএনও এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা প্রকৃতপক্ষে আন্দোলনে অংশ নেননি, অথচ সুবিধা নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমাকে বলা হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ হবে। পরে গিয়ে দেখি জুলাই যোদ্ধাদের নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”
গফরগাঁওয়ে জুলাই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে সুবিধা নেওয়ার এই ঘটনা এখন স্থানীয় রাজনীতির গরম ইস্যু। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই হয়তো স্পষ্ট হবে—আসলেই কে ছিলেন আন্দোলনের সৈনিক, আর কে ছিলেন সুবিধাভোগী!


