নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতায় অশান্ত শিল্পাঞ্চল: পুলিশ সুপার
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বুধবার দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, হেমায়েতপুরে প্রথমে ওই পক্ষের লোকজন পোশাক কারখানায় হামলা চালায়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। বুধবারের ঘটনায় প্রকৃত শ্রমিকেরা জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে ককটেলসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল। বুধবার সেই উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায়। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে একের পর এক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


