হাসিনা–কামালের সাজা বাড়াতে আপিল, শুনানি আজ
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল–এর একটি অভিযোগে দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিলের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আপিলটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
প্রসিকিউশন আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিলে আটটি গ্রাউন্ড (যুক্তি) উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন—একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্যটিতে মৃত্যুদণ্ড।
একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন–কে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এস. এইচ. তামিম, বিএম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। রাজসাক্ষী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
এই মামলায় গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দেন। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। পরবর্তীতে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে একাধিক মামলা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।


