গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো আইনি বাধা নেই

জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো আইনি বাধা নেই
নিউজ ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন।

আলী রীয়াজ বলেন, বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫ কিংবা গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশে কোথাও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে মত প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, “আইনগত বাধা আছে—এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এমন প্রচার করছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এই প্রশ্ন তুলছেন, তারা আসলে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করছেন। “অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, এই গণভোট সেই পথেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ,”—যোগ করেন তিনি।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দেখার প্রবণতার সমালোচনা করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বৈধতার ভিত্তিতেই এই সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এটি কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার তিনটি মূল ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে—রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। নির্বাচন আয়োজন সরকারের কাজ নয়; সরকার শুধু অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করে আদালত, সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, অতীতে এমন গণভোট হয়নি—এই দাবি সঠিক নয়। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৪৮টি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য এবং আইনগতভাবে বৈধ একটি প্রক্রিয়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গণভোটের বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষ বুঝবে না—এমন ধারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যে জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে, তারা অধিকার সম্পর্কিত প্রশ্ন বুঝবে না—এমন ধারণা জনগণের প্রতি অবমাননাকর।”

সভায় বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এই গণভোট। তিনি বলেন, “আগের ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।”

সভায় আরও বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিলেট বিভাগের কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।