নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয়
নির্বাচন নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
নিউজ ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ সব নির্বাচনের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। এ সময় তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, “এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। আমাদের সবাইকে আশাবাদী হতে হবে।”

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম ও অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি স্বাগত জানান।

এ সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে যাওয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আশ্রিত এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আবেদন করেছে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।