জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে উত্তেজনা কমবে কি না, তা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয়
জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে উত্তেজনা কমবে কি না, তা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিউজ ডেস্ক
১ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করবে কি না—সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তার মতে, এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে হলে সময়ের অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এক সাংবাদিক জানতে চান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা টানটান অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা আগমন সম্পর্কের বরফ গলাতে ভূমিকা রাখবে কি না। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এর উত্তর ভবিষ্যতেই খুঁজে নিতে হবে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। একই দিনে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি ছিল একটি স্বাভাবিক ও সৌজন্যমূলক উপস্থিতি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও একই কারণে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশের নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছেও একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধারণ করতেন। দল-মত নির্বিশেষে তার প্রতি মানুষের যে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল, তা দক্ষিণ এশিয়ায় স্বীকৃত। ফলে তার মৃত্যু ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি স্বাভাবিক বিষয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি এবং দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। সংক্ষিপ্ত কথোপকথন ছিল কেবল সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

তিনি বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক সৌজন্য আচরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর বাইরে বাড়তি রাজনৈতিক অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই।”