হাদির খুনিকে পালানোর ব্যবস্থা করেন যারা, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয়
হাদির খুনিকে পালানোর ব্যবস্থা করেন যারা, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিউজ ডেস্ক
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির পর হত্যাকারীদের সীমান্ত পার করে দেওয়ার একটি সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ঘটনার পরপরই খুনিদের নিরাপদে দেশত্যাগে সহায়তার জন্য আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পালানোর পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। তাকে সহায়তা করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম।

এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন পর্যন্ত হাদি হত্যাকাণ্ডে পুলিশ ও র‍্যাবের হাতে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করানোর বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। ফয়সাল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতেই তারা ঢাকা ছাড়েন এবং একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে অবৈধভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। পুরো সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থাপনা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন তাইজুল ইসলাম, যিনি সে সময় নিজেও ভারতে অবস্থান করছিলেন।

হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পারাপারে জড়িত কয়েকজন দালালের সক্রিয়তার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ফিলিপ স্নাল, যিনি সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ পর তাইজুল ভারত থেকে তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে ফোন করে ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানান। এরপর আমিনুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন দ্রুত ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই রাতেই দুই ব্যক্তিকে সীমান্ত পার করানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আমিনুল ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নির্দেশনা পৌঁছে দেন এবং পরে বিষয়টি তাইজুলকে নিশ্চিত করেন। এরপর ফিলিপকে ৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়, যার বিনিময়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করানো হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা পুলিশ ফয়সাল ও আলমগীরের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, যাদের তারা সীমান্ত পার করিয়েছেন, তারা রাজধানীতে একটি বড় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে—এ তথ্য তারা পরে গণমাধ্যমের সংবাদ দেখে জানতে পারেন। ঘটনার পর ফিলিপ আত্মগোপনে চলে যান।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকায় দাফন করা হয়।