নেতারা দিনে বক্তব্য দিয়ে রাতে আসামি ছাড়াতে তদবির করেন: ইসির সভায় রেঞ্জ ডিআইজি

জাতীয়
নেতারা দিনে বক্তব্য দিয়ে রাতে আসামি ছাড়াতে তদবির করেন: ইসির সভায় রেঞ্জ ডিআইজি
নিউজ ডেস্ক
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদন দেশের বাস্তব পরিস্থিতিকে বিভ্রান্তিকরভাবে তুলে ধরছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের ভাষা ও উপস্থাপনা দেখে মনে হয় যেন বাংলাদেশ সিরিয়া বা লিবিয়ার মতো কোনো অস্থির রাষ্ট্র।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিআইজি পলাশ বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানা চাপের মধ্যে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ছাড়াতে দিনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়া রাজনৈতিক নেতারাই রাতে তদবির করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সভায় উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানান তারা।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আরও বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের নির্বাচনকে এমনভাবে আয়োজন করা, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি জানান, পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং দলমত নির্বিশেষে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর থাকবে।

এ ছাড়া সভায় সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি মোতায়েন, ড্রোন ব্যবহার, চিহ্নিত অপরাধীদের জামিন রোধ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ভুয়া কনটেন্ট দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৬ সালের নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে পরিণত হবে।