নাহিদ হাসনাতসহ গানম্যান পেলেন যারা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, পররাষ্ট্রনীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন—এমন আশঙ্কার কথা জানাচ্ছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ও আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলির ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
নিরাপত্তা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সংসদ-সদস্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা কয়েকজন নেতাকে ইতোমধ্যে সরকারি গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থীরাও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আবেদন করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে গানম্যান চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, আবেদনের পর্যালোচনার ভিত্তিতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, বিএনপির একাধিক সংসদ-সদস্য প্রার্থী, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ কয়েকজন নেতাকে পর্যায়ক্রমে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিহত শরীফ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবারের একজন সদস্যকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়ার পাশাপাশি অন্য সদস্যদের সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “যেসব জুলাই যোদ্ধা ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


