ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জাতীয়
ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’
নিউজ ডেস্ক
২০ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। সর্বশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’ সরাসরি জড়িত ছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের জন্য অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ—দুটোতেই শাহীন চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে তিনি একা নন; তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্ত অভিমুখে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক রাজনৈতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগের ভেতরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি করে। দলটির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় তাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক পরিচিতি ও অতীত কর্মকাণ্ডও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি আবার সক্রিয় হন। তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা তার অনুসারী ও ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, হোয়াটসঅ্যাপ কল ও বার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে।

সূত্র জানায়, এই মামলার তদন্তে আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”