ওসমান হাদির ওপর হামলা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র: প্রধান উপদেষ্টা
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট ভণ্ডুল করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্যকে নিয়ে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বকালীন সময়ে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা একটি গুরুতর ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এটি কেবল একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর আঘাত নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এ হামলার মাধ্যমে দেশের অস্তিত্ব ও স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
ড. ইউনূস আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে। যত বাধা ও প্রতিকূলতা আসুক না কেন, কোনো শক্তিই আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না। তিনি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান জানান, ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারী ও তাদের পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। তিনি দেশবাসীর কাছে ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে পুলিশ জানায়, হামলার স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জোরদারের নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার ও অপরাধীদের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।


