আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

দেশজুড়ে
আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিচ্ছে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
নিউজ ডেস্ক
৫ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি— যেখানে শহীদ ও আহতদের পরিবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মর্যাদা পাবে।”

বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা গাজী সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গাজী সালাউদ্দিন ভাই ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক অকুতোভয় সৈনিক। আন্দোলনের সময় আহত হয়েছিলেন, গলায় স্প্লিন্টার ও চোখে গুরুতর আঘাত নিয়েও তিনি টিকে ছিলেন বহুদিন। আমরা জানি, মৃত্যুর আগে তিনি রাজনৈতিক হেনস্তারও শিকার হয়েছিলেন।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, “এ রকম হাজারো জুলাই যোদ্ধা এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসাহীন অবস্থায় কষ্ট পাচ্ছেন। কেউ চোখ হারিয়েছেন, কেউ শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে আছেন। তাদের পাশে রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই আহতদের একবার চিকিৎসা দিলেই হবে না, তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গাজী সালাউদ্দিনের মতো আরও অনেক যোদ্ধা আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সালাউদ্দিন ভাইয়ের দুটি সন্তান ও অসুস্থ স্ত্রী রয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করা উচিত। কারণ তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করতে পেরেছি। নির্বাচনের ডামাডোলে যেন আমরা এই পরিবারগুলোর কথা ভুলে না যাই।”

গত বছরের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জ শহর উত্তাল হয়ে ওঠে। সে সময় ভূঁইগড় এলাকার দোকানকর্মী গাজী সালাউদ্দিন ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন।
১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন এবং এক চোখের দৃষ্টি হারান। চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে তিনি খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা চাই, নির্বাচনের পর যে-ই সরকার গঠন করুক, তারা যেন শহীদ ও আহতদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। তাদের ত্যাগের প্রতিদানই হবে একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।”