কুড়িগ্রামে নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

দেশজুড়ে
কুড়িগ্রামে নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে নিঃস্ব হাজারো পরিবার
নিউজ ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২৫

উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। জেলাটির বুক চিরে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী। এসব নদীর প্রবাহ আর আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিবছর ভিটেমাটি হারাচ্ছে হাজারো মানুষ। গত পাঁচ বছরে জেলার ১১ হাজারেরও বেশি পরিবার তাদের শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়েছে নদীগর্ভে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে ১১ হাজার ৯টি বসতভিটা। এর মধ্যে শুধু ২০২৪ সালেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৬টি পরিবার—যা গত চার বছরের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

চিলমারীর বজরাদিয়া এলাকার আব্দুল আউয়াল বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আগে বুঝা যেত কখন নদী ভাঙবে, এখন তো বছরজুড়েই ভাঙে। গ্রামটাই মানচিত্র থেকে মুছে গেছে।”

তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের গতিপথে হঠাৎ পরিবর্তন, চর সৃষ্টির প্রবণতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব নদীর আচরণ এখন অনির্ধারিত।
রাজারহাটের বয়োবৃদ্ধ জব্বার আলীর কথায়,

“তিস্তা নদীকে বুঝবার পারি না। কখন পানি বাড়ে, কখন ভাঙে—কিছুই বোঝা যায় না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ৫ বছরে উজানের ঢল ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে ২১ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ৭০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বিদ্যানন্দের কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন,

“আমরা আগাম বার্তা পাই না। নিজেরা মোবাইল দেখে যতটুকু বুঝি, ততটুকুই। কিন্তু ফসল মাঠেই নষ্ট হয়।”

উলিপুরের ইদ্রিস আলী জানান,

“বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টি নেই। খরায় পড়ে সেচ দিয়ে পাট করেছি। কিন্তু ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছি।”

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ সুবল চন্দ্র সরকার বলেন,

“তিস্তা ও ধরলা ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত। ওদিকে বৃষ্টি না হলেও ভারতের বাঁধ খুলে দিলে আকস্মিক পানি বৃদ্ধি হয়। সবসময় আগাম বার্তা দেওয়া সম্ভব হয় না।”

কৃষি অফিসও সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,

“সবসময় আমরা বার্তা দিতে পারি না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান,

“১৫টি পয়েন্টে ভাঙনরোধে কাজ চলছে। এছাড়া রৌমারী ও রাজিবপুরে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কাজ শুরু হচ্ছে।”

তবে বাস্তবতায় এসব প্রকল্পের সুফল পেতে এলাকাবাসীর অপেক্ষা দীর্ঘ।