পুলিশের ভোজসভায় নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার উপস্থিতি, কয়েক ঘণ্টা পরই গ্রেপ্তার

দেশজুড়ে
পুলিশের ভোজসভায় নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতার উপস্থিতি, কয়েক ঘণ্টা পরই গ্রেপ্তার

লাল বৃত্তে যুবলীগ নেতা মোক্তার বেপারী ও ওসি পারভেজ আহমেদ সেলিম।

নিউজ ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শরীয়তপুরের জাজিরায় পুলিশের একটি ভোজসভা ঘিরে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে থানার ভেতর আয়োজিত ওই ভোজসভায় নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের স্থানীয় এক নেতাকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানোর পর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আহমেদ সেলিম ভোজের আয়োজক ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মোক্তার বেপারী, তিনি নাওডোবা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় মাসিক ভোজসভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সেই অনুষ্ঠানে টেবিলের এক পাশে বসানো হয় মোক্তার বেপারীকে, যিনি স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় বিতর্ক।
দাবি ওঠে—একদিকে পুলিশের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ, অন্যদিকে রাতেই তাকে গ্রেপ্তার—এটি কি পূর্বপরিকল্পিত নাটক ছিল?

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওসি পারভেজ আহমেদ সেলিম বলেন,
“তিনি আমাদের নিয়মিত ভোজসভায় নাওডোবা বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন। পরে জানতে পারি তিনি যুবলীগের সভাপতি। এরপর সার্কেল স্যারের নির্দেশে তাকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে মোক্তার বেপারীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় বিভিন্ন মহল। অনেকে বলছেন—যদি মোক্তারের বিরুদ্ধে মামলা বা ওয়ারেন্ট থেকে থাকে, তবে তাকে পুলিশি ভোজসভায় আমন্ত্রণের যৌক্তিকতা কোথায়?
আবার কেউ কেউ বলছেন—গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এমন আমন্ত্রণ কৌশল ছিল কি না, সেটাও প্রশ্নের মুখে।

শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন,
“পুরো বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
নাওডোবা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন—এটি পুলিশের দ্বৈত চরিত্রের প্রকাশ। একজন ‘চিহ্নিত’ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো আর রাতারাতি তাকে অপরাধী বানানো—এটি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।