ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা খাচ্ছে ডলার, চাপে মার্কিন বাজার

ট্রাম্পের নীতিতে ধাক্কা খাচ্ছে ডলার, চাপে মার্কিন বাজার
নিউজ ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৫

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মার্কিন অর্থনীতি এক ধরনের ‘নীতিগত ঝাঁকুনির’ মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক শুল্ক আরোপ, বাজেট ঘাটতির বিস্তার এবং ফেডারেল রিজার্ভে রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা পড়েছেন গভীর সংশয়ে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডলার ও মার্কিন সম্পদের ওপর।

শুধু গত তিন মাসেই ডলারের মান বিশ্বের বড় অর্থনীতির মুদ্রার বিপরীতে ১০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের চোখে আর ডলার আগের মতো ‘নিরাপদ আশ্রয়’ নয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত সুদের হার বাড়লে মুদ্রার দামও বাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে উল্টো চিত্র। হঠাৎ শুল্ক ঘোষণার কারণে মার্কিন বন্ডের সুদহার বাড়লেও ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থনীতিবিদরা একে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার একটি বৈশ্বিক সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্কট বেসেন্ট পূর্বাভাস দিয়েছিলেন—আমদানি কমলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টোটা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ঐতিহ্যগতভাবে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। এপ্রিলের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়লেও ডলারের মূল্য পতন ঘটেছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

অর্থনীতিবিদ স্টিভেন কামিন বলেন, “ডলার তার ঐতিহাসিক ‘নিরাপদ আশ্রয়ের’ অবস্থান থেকে কিছুটা সরে গেছে। এটি বাজারে ট্রাম্প-প্রভাবিত আস্থার সংকেট।”

যদিও গত সপ্তাহে জেরোম পাওয়েলকে বরখাস্তের ইঙ্গিতের পর বাজারে ঝড় উঠেছিল, পরে ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়। তবে একে বিশেষজ্ঞরা সাময়িক স্থিতি বলেই মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ১ আগস্ট ট্রাম্প যদি আবারও বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে এপ্রিলের মতো আবারও বাজারে বড় ধস নামতে পারে। বিশেষত, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকলে বাজার আরও বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হতে পারে।


ডলারের দুর্বলতা কেবল একটি আর্থিক ইঙ্গিত নয়, বরং এটি আমেরিকার বৈশ্বিক আস্থা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার একটি বারোমিটার। আগামী দিনে মার্কিন অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে—বিশেষ করে যদি নীতিগত দোলাচল অব্যাহত থাকে।