সিরিয়ায় জাতিগত দাঙ্গায় উত্তাল সুয়েইদা, নিহত অন্তত ৩০
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সুয়েইদায় বেদুইন সুন্নি ও সংখ্যালঘু দ্রুজ সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি দেশটির শীর্ষ ধর্মীয় নেতারাও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্রপাত একটি বেদুইন পরিবারের সঙ্গে দ্রুজ সম্প্রদায়ের কয়েকজন যুবকের মধ্যে বিবাদ থেকে। বিবাদটি দ্রুত রূপ নেয় সহিংস সংঘর্ষে। একাধিক অস্ত্রধারী গোষ্ঠী এই সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বছরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর থেকে সিরিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক শূন্যতা। ক্ষমতার পালাবদলে একদিকে ইসলামপন্থী দলগুলো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দানা বাঁধছে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস।
মানবাধিকার সংগঠন ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়েও বেশি, যা ৩৭ ছাড়িয়ে গেছে। সংঘর্ষে বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
সুয়েইদার গভর্নর মুস্তাফা আল-বাকুর এক বিবৃতিতে বলেন, “এখন সময় একে অপরকে বোঝার, সহনশীলতার। এই সহিংসতা শুধু আমাদের শহর নয়, পুরো দেশের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছিল খুবই ধীর এবং অপ্রতুল। কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক শাসন কাঠামোর অধীনে নিরপেক্ষ প্রশাসনের অভাবই সহিংসতার অন্যতম কারণ।
জাতিসংঘ সিরিয়ায় এ ধরনের জাতিগত সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও সিরিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সোমবার রাতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় sporadic গুলির শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শহরের দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে, মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
সিরিয়ার এই নতুন সহিংসতার ঢেউ কেবল সুয়েইদা নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।


