‘পুরো ইউক্রেনই রাশিয়ার’ — পুতিনের বিস্ফোরক ঘোষণা, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা
সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া এক ভাষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন— ইউক্রেনের সম্পূর্ণ ভূখণ্ডকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে দেখতে চান তিনি। এ মন্তব্য ঘিরে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাষণে পুতিন বলেন, “আমি বহুবার বলেছি— রুশ ও ইউক্রেনীয়রা এক জাতি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বলছি, পুরো ইউক্রেনই আমাদের।” তিনি আরও বলেন, “যেখানে রুশ সেনারা পা রাখে, সেই ভূমি রাশিয়ার। এটি সামরিক পরিকল্পনার অংশ নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ন্যায্যতার দাবি।”
পুতিনের বক্তব্যের পরপরই ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা বলেন, “রুশ সেনারা যেখানে যায়, সেখানেই মৃত্যু, ধ্বংস ও বিভীষিকা ছড়িয়ে পড়ে।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “পুতিন এখন আর মুখোশ পরছেন না। শুধু ইউক্রেন নয়, বেলারুশ, বাল্টিক রাষ্ট্র, মলদোভা এমনকি কাজাখস্তানকেও টার্গেট করছেন তিনি।”
জার্মানির সামরিক বাহিনীর এক গোপন প্রতিবেদনে রাশিয়ার এই সম্প্রসারণবাদী মনোভাবকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতিনের ঘোষণার পর ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ন্যাটোর নবনিযুক্ত মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, “২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপ ও কানাডা মিলিয়ে ইউক্রেনকে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সামরিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”
এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি, গোলাবারুদ ও নজরদারি যন্ত্রপাতি। মার্ক রুটে বলেন, “এই সহায়তা প্রমাণ করে, রাশিয়ার আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আবহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউক্রেন ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ সম্ভব নয়। “বর্তমানে ইসরায়েলের জন্যও এসব সরঞ্জামের চাহিদা রয়েছে,” বলেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “যতক্ষণ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে অস্ত্র দিচ্ছে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নেই।” তিনি আরও বলেন, “যারা সত্যিকারের শান্তি চায়, তাদের উচিত অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ কেবল ইউক্রেনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো ইউরোপে। রাশিয়ার এই স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি—যে তারা পুরো ইউক্রেনকে দখলে নিতে চায়—সংঘাতকে আরও দীর্ঘ ও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।


