নির্বাচন কমিশন (ইসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার আগারগাঁওয়ে ইসির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “২০০৮ সালে জামায়াতে ইসলামীকে প্রতীকসহ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, প্রতীক কোনো দলকে দিলে সেটি সেই দলের জন্য সংরক্ষিত থাকে আরপিও অনুযায়ী। তাই দলটি প্রতীকসহ নিবন্ধন পাবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে, কারণ তাদের সংবিধান রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এরপর, জামায়াত তাদের নিবন্ধন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে পুনরায় শুনানির সুযোগ পায়।
বর্তমানে, জামায়াত তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে “প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সংস্কার” দাবি করেছে, যার মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, “সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না”।
এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

