গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছে বা আহত হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশু। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, গাজার পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়,
“গাজায় প্রতি ২০ মিনিটে এক শিশু নিহত বা আহত হচ্ছে। স্কুল, হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হচ্ছে, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ — এই যুদ্ধ শিশুদের শৈশব ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, মানবতার চরম অবমাননা।”
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত ও ২৮৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, গাজা সিটির আল-শান্তি এলাকার ওমর মসজিদের পাশে একটি তাঁবুতে চালানো হামলায় আরাফাত দিব নামের এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ প্রাণ হারান।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলা-অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৪,৩৮১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১,২৪,৩৮১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে ইউনিসেফ বলেছে,
“এই শিশুরা শুধু পরিসংখ্যান নয় — এরা মানুষ, পরিবার, স্বপ্ন। তাদের এভাবে মরতে দেওয়া চলতে পারে না। এমন কিছু কোনো শিশুই দেখতে, বুঝতে বা অনুভব করতে আসেনি এই পৃথিবীতে।”
মানবাধিকার সংগঠন ও মানবিক সংস্থাগুলোর দাবি, এখনই যুদ্ধবিরতি না হলে গাজায় শিশুদের একটি পুরো প্রজন্ম হারিয়ে যাবে। ইউনিসেফ, রেডক্রসসহ একাধিক সংস্থা অবিলম্বে মানবিক করিডোর খোলার আহ্বান জানিয়েছে।

