কানাডার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ম্যানিটোবা প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বিপজ্জনক অবস্থার মুখে অন্তত ১৭ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আলবার্টা প্রদেশের কিছু অংশে তেল ও গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ম্যানিটোবার প্রিমিয়ার ওয়াব কিনিউ জানান, উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ফ্লিন ফ্লন শহরের বাসিন্দারাও রয়েছেন। তিনি বলেন,
“এটি প্রদেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।”
উদ্ধারপ্রাপ্তদের উইনিপেগসহ বিভিন্ন শহরের কমিউনিটি সেন্টার ও ফুটবল মাঠে অস্থায়ী আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। সহযোগিতায় নেমেছে কানাডার প্রতিরক্ষা বাহিনীও।
দাবানলের প্রভাবে আলবার্টা প্রদেশেও পড়েছে বড় প্রভাব। সিনোভাস এনার্জি জানিয়েছে, ফস্টার ক্রিক এলাকার কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর আলবার্টার চিপেওইয়ান লেক এলাকায় প্রায় ২,৯০০ হেক্টর জুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এটি তেলসমৃদ্ধ ফোর্ট ম্যাকমারির কাছাকাছি হওয়ায় তেল কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আলবার্টা সরকার জানিয়েছে, চিপেওইয়ান লেক এলাকাটি আপাতত সরাসরি হুমকিতে না থাকলেও, বাতাসের দিক পরিবর্তিত হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এজন্য বাসিন্দাদের ১ ঘণ্টার মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সোয়ান হিলস শহরের উত্তরে আরও একটি বড় দাবানলে ১,৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ছে। শহরটির প্রায় ১,২০০ বাসিন্দাকে সোমবার রাতেই সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রিমিয়ার ওয়াব কিনিউ আরও বলেন,
“এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সম্পদ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কানাডার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল এখন আরও ঘন ও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

