শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তাহসিফের মৃত্যু রহস্য: দিশার কাছ থেকে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিউজ ডেস্ক

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিন রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে আদালতের শুনানিতে আসামিপক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।

এ ছাড়া মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। দিশা ও দীপের দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ক্রসচেক করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় জেরিকার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দিশা জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপন করে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। পরে এ মামলায় দীপ ও দিশাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন