কোথাও কারফিউ জারি, কোথাও দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীদের দমনে ছিল অর্থের জোগানও। এমনকি ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ পরিকল্পনা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে এসব সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন।
এই সাত আসামি হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সাবেক সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সাতজনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মির্জা আজমের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, কারফিউ জারি, হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের অর্থের জোগান দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এসব নেতা ভূমিকা রাখেন। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকার কারণে সাতজনের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগও এনেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আমির হোসেন আমু: কারফিউ ও অর্থের জোগানের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৪ দলীয় জোটের সাবেক সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন আমু।
এ ছাড়া ২৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। এর মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবিরের সদস্য আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার, মামলা ও নির্যাতনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।
কারফিউ চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অর্থের জোগান ও বণ্টনের দায়িত্বও আমুর ওপর ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট তাঁর বাড়ি থেকে বস্তাভর্তি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, আন্দোলন দমনে ১৪ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিতরণের জন্য এসব টাকা রাখা হয়েছিল। তাঁর ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তায় গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মির্জা আজম: নেতাকর্মীদের মাঠে রাখা ও অর্থ বিতরণ
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের বিরুদ্ধে কারফিউ চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে রেখে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানোর প্রস্তুতি এবং অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কারফিউ চলাকালে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা ওবায়দুল কাদেরকে জানিয়েছিলেন মির্জা আজম। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন পর্যায়ে তা বণ্টনের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
এ ছাড়া ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের সমর্থন এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায়ও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে আন্দোলনকারীদের অপশক্তি আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, তাঁর ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তায় ৫ আগস্ট মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়।
শাজাহান খান: আন্দোলন দমনে দলীয় পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বক্তব্যের সমর্থন জানান তিনি। ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মতবিনিময় সভাতেও উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ১৮ ও ২০ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং সমর্থিত শ্রমিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে দলীয় কর্মীদের মাঠে রাখার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
নিজ জেলা মাদারীপুরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায়ও তাঁর ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই মাদারীপুর সার্কিট হাউসের সামনে দীপ্ত দেকে মারধরের পর শকুনি লেকের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই শ্রমিক রুমান ব্যাপারী ও তাওহীদ সন্নামতকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া ৩০ জুলাই গঠিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক বা অভিভাবক হিসেবে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াতের সদস্য আখ্যা দিয়ে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টায় যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট মিরপুরে গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আবদুর রাজ্জাক: উসকানিমূলক বক্তব্য ও দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত
সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের পাশে উপস্থিত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমর্থন জানান তিনি। ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’ বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, ফারুকসহ এবং রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয় আন্দোলনকারী নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭ জুলাই ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্জাক। ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
৪ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের একটি অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, রাজাকার ও আলবদর আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল এবং শিকড় তুলে নেওয়ার বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। এসব ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তার পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর, উত্তরা, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দীপু মনি: কারফিউ ও গুলির সিদ্ধান্তের বৈঠকে উপস্থিতি
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দীপু মনি। ওই বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি এবং কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে দলীয়ভাবে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।
ফারুক খান: ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঠেকানোর পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ
সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকালে গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন ফারুক খান। ২৭ সদস্যের ওই কমিটির চতুর্থ সদস্য ছিলেন তিনি। সভায় যেকোনো উপায়ে আন্দোলন দমন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আন্দোলন পরিচালনার সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই দিন রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকানোর পরিকল্পনা করা হয়। ঢাকার সব প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এসব পরিকল্পনায় ফারুক খানের অংশগ্রহণের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট ঢাকায় আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে কারফিউ জারি ও দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ততা এবং ৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুরে হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগও রয়েছে।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী: সরকারপ্রধানকে পরামর্শ ও সহায়তার অভিযোগ
সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৪ জুলাই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতি-পুতি’ সম্বোধন করে বক্তব্য দেওয়ার পর তা সমর্থন করেন তৌফিক-ই-ইলাহী। পাশাপাশি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে দেশব্যাপী কারফিউ জারি ও কারফিউ চলাকালে দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত এবং ৪ আগস্ট গণভবনে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় আন্দোলন দমনের পরিকল্পনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
একই দিন রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকানোর পরিকল্পনাতেও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন। উপদেষ্টা হিসেবে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে পরামর্শ, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সংঘটিত অপরাধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা না রাখা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের এই সাত নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। যাচাই-বাছাইয়ের পর গত ২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালত অভিযোগ আমলে নেন।
মামলায় সাত নেতার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও আসামিদের দায় আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট

