ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটাতে সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এ তথ্য উঠে এসেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে আলোচনার পথ খুঁজতে সৌদি আরব তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর আগে লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছের ভূখণ্ড দখল করে নেয় বিদ্রোহীরা।
আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে সৌদি বিমান হামলা ও দীর্ঘ অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে হুতিরা। পরবর্তী আলোচনায় ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে ভিন্ন হিসাব সামনে এলেও তাদের অবস্থান ছিল, সমঝোতায় পৌঁছাতে সৌদি আরবকে কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।
শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, ইয়েমেনের বৈধ শাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও চেয়েছে বিদ্রোহীরা। এমন স্বীকৃতি দেওয়া হলে সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে ইরান-সমর্থিত একটি প্রতিপক্ষ শক্তিকে মেনে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলা বাড়িয়েছে হুতিরা। একই সঙ্গে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তারা। শহরটি থেকে বিদ্রোহীদের অবস্থান প্রায় ৫০ মাইল দূরে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্থলযুদ্ধে অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক। এতে সৌদি সেনাদের প্রাণহানি এবং দেশের অভ্যন্তরে জনঅসন্তোষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সহায়তা পেতেও সমস্যায় পড়েছে রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সহায়তা দিতে রাজি হয়নি। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত বন্ধে সৌদি আরবের কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক বিকল্প নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

