ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট নেতা অবদুল আল-সাইয়েদ। তাঁর অভিযোগ, ইরান ইস্যুতে কাজ শেষ করার কথা বললেও লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচনের পর ‘ফক্স ২’-এর বিশেষ সম্প্রচারে অংশ নিয়ে ট্রাম্পের ইরাননীতি নিয়ে সমালোচনা করেন মিশিগানের নবনির্বাচিত এই সিনেটর।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে দেশটির সঙ্গে বাধ্যতামূলক চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলে আসছেন ট্রাম্প। তবে আলোচনায় সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান স্বাভাবিক আচরণ না করলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিলে এখনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের এই অবস্থান বোঝাতে একটি উদাহরণ দেন আল-সাইয়েদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এমন এক ঠিকাদারের মতো, যাকে দুই মাসের মধ্যে একটি বাড়ির সংস্কারকাজ শেষ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়ল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। আল-সাইয়েদের মতে, ওয়াশিংটনের শুরু থেকেই এমন কোনো সংঘাত বা যুদ্ধে জড়ানোর প্রয়োজন ছিল না।
তিনি বলেন, ‘তারা কেবল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কিছু প্রতিশ্রুতি গিলিয়েছে। বাস্তবতা ছাড়া আর কিছুই নয় এটি।’ মার্কিন জনগণ আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতি পাওয়ার অধিকার রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট অবদুল আল-সাইয়েদ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। অবসরে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হবেন আল-সাইয়েদ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আল-সাইয়েদের এ মন্তব্য সামনে এলো।
গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। তাঁর যুক্তি ছিল, তেহরানের পক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
এরপর গত ৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে নির্বাচনের পর আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা—এমন তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
বুধবার ট্রাম্প স্বীকার করেন, ইরান ইস্যু মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে এবং দলটির আসন হারানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে নিজের সামরিক সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখে তিনি বলেন, একই পরিস্থিতি আবার তৈরি হলে তিনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন।

