বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আইজেনকটকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব বিরোধীদের

নিউজ ডেস্ক

জালিয়াতি বা নির্বাচনী কারচুপির কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে দেশটির সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি। বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল হস্তান্তর করেছে সংস্থাটি। তবে নির্বাচনে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে প্রধান বিরোধী দলগুলো পার্টি ইশারের প্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বিরোধী দলগুলো।

নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন। এ ছাড়া আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন।

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো পক্ষই সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দুই দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

নির্বাচনের ফল গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো স্পষ্ট বিজয়ী নেই। নতুন নির্বাচন এড়াতে দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সাহস, সৃজনশীলতা ও সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন।

এর আগে মঙ্গলবার হারজিলিয়ায় এক শীর্ষ বৈঠকে বসে প্রধান বিরোধী দলগুলো। সেখানে গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে দ্রুত একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্টের কাছে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আবেদন জানাবে তারা।

এদিকে নির্বাচনের ফল যাচাইয়ে ৯ হাজার ৬৯টি ভোটকেন্দ্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেছে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি। পর্যালোচনায় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ বলেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগগুলোর তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ফলাফল সবার জন্য বাধ্যতামূলক। প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনের ফল নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরির চেষ্টা ইসরায়েলের গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দুই দিনের আলোচনা শেষে যাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তিনি প্রথম দফায় ২৮ দিন সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন করে নির্বাচনের পথ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের শুরুতে আবারও আগাম সাধারণ নির্বাচনে যেতে হতে পারে ইসরায়েলকে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন