বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ, এর মধ্যেই দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রসিকিউটর

নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার দেশ ছেড়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তদন্ত এখনো শেষ না হলেও গত ৩১ অক্টোবর তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তাঁর দেশত্যাগের বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, সাইমুম রেজার বিদেশযাত্রার ওপর কোনো আইনি বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ফলে তাঁর দেশত্যাগ ঠেকানোর এখতিয়ার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষের ছিল না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাবেক এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে।

অভিযোগটি সামনে আসার পর গত ৯ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন। পরদিন ১০ মার্চ অভিযোগ তদন্তে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তবে আট মাস পেরিয়ে গেলেও কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

তদন্তে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে আমিনুল ইসলাম বলেন, কমিটির একজন সদস্য দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। তিনি নিজেও কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। এ ছাড়া কমিটির আরেক প্রসিকিউটর তাঁর মায়ের মৃত্যুর কারণে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। এসব কারণে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগের পাশাপাশি অন্যান্য অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘুষ দাবির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘুষ চাওয়া এবং ঘুষ দেওয়া—দুটিই অপরাধ। তাই যারা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাঁদের দায়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, সাইমুম রেজার দেশত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি। ইতালি যাওয়ার খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে আর সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

সব মিলিয়ে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা না পড়া এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক প্রসিকিউটরের দেশত্যাগের ঘটনা ট্রাইব্যুনালের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন