মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইন বন্ধের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক

ইরানের সব বাণিজ্যিক এয়ারলাইনকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে কার্যত অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা ও টিকিট বিক্রির মতো সেবা দিলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ‘সব ইরানি এয়ারলাইন বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাবে’। তাঁর এই বক্তব্যের অর্থ হলো, ইরানি বিমানগুলো বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে।

বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, কোনো বিমানবন্দর বা প্রতিষ্ঠান ইরানি এয়ারলাইনকে জ্বালানি সরবরাহ, অবতরণসেবা কিংবা টিকিট বিক্রির সুবিধা দিলে তাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর ঝুঁকি থাকবে। ফলে নিষেধাজ্ঞার চাপ শুধু ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর নয়, তাদের সঙ্গে কাজ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়বে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) ইরানের অবশিষ্ট ২৭টি এয়ারলাইনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরানের বিমান চলাচল খাতকে দেশটির সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) অস্ত্র, জনবল ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহার করে।

মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করা বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে ইরানগামী কিছু উড়ান পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে দেওয়া কয়েকটি অনুমোদনও বাতিল করা হয়েছে।

ইরানের বিমান চলাচল খাত দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিমান, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা সংগ্রহে সমস্যায় রয়েছে। নতুন পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

ইতোমধ্যে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইনস ইরানে সব ফ্লাইট ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেই এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল।

নতুন মার্কিন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে বিদেশি দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ কতটা মেনে চলবে, তার ওপর নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

 

সূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন